Wednesday, March 19, 2008

সিবিট মেলা ২০০৮

তুমুল মানুষ ও প্রযুক্তির আনাগোনার মাধ্যমে প্রতি বছরের মতো এবারো হয়ে গেলো সিবিট প্রযুক্তি মেলা। এবারকার সিবিট মেলা হয়েছে জার্মানির হ্যানোভারে। শুরু হয়েছিলো ৯ মার্চ থেকে। প্রায় পাঁচ লাখের মতো দর্শক প্রতিদিন এই মেলা ঘুরে যায়। যতই দিন যাচ্ছে প্রযুক্তির নিত্য নতুন অধ্যায়ের সূচনা হচ্ছে; আর সেই সাথে সুরক্ষার ভূত মানুষের মাথায় ততো চেপে বসছে। একই সাথে কোম্পানীও তার পকেট ভরছে এই উপলক্ষ্যে। তাই এই মেলায় প্রাধান্যও পেয়েছে সুরক্ষামূলক প্রযুক্তিগুলো। নিচের এই ফিচারে উল্লেখযোগ্য বিভিন্ন প্রযুক্তিগুলো তুলে ধরা হলো।









সুরক্ষা প্রযুক্তি
নর্টন এন্টিভাইরাস নির্মাতা সিমেনটেক কোম্পানী ও এসএপি নিয়ে এসেছে উচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন ফায়ারওয়াল; যা দিয়ে ব্যবহারকারী তাদের তথ্যকে করতে পারবে আরও সুরক্ষিত।

হিতাচি নিয়ে এসেছে সুরিক্ষত ল্যাপটপ। এটি ব্যবহারকারীর মধ্যমা আঙ্গুলের অভ্যন্তরিন শিরা এর নকশা সংরক্ষন করে রাখবে। হিতাচি দাবী করছে এটি আঙ্গুলের চিহ্ন বা চোখের রেটিনা সনাক্তকরণ পদ্ধতির চেয়ে আরও অনেক বেশি উন্নত। শুধু তাই নয়, শিরা’র এই তথ্য আন্তর্জাতিক অপরাধী সনাক্তকরণেও কাজে আসবে।

আইবিএম দেখিয়েছে তাদের আরএফআইডি (রেডিও ফ্রিকোয়েন্সি আইডেন্টিফিকেশন) প্রযুক্তি। এটি মানুষকে অনুসরণ করতে পারবে। মেলাতে দেখা গেছে হলগার মেয়ার নামক এক ভদ্রলোক আরএফআইডি ট্যাগ এক সপ্তাহ ধরে গলায় ঝুলিয়ে রেখেছে। তিনটা বিশাল বিশাল টেলিভিশনে দেখানো হয়েছে তিনি মেলার কোথায় আছেন। এটির ক্ষমতা ছিলো বাথরুম এবং তৃতীয় তলা পর্যন্ত।
এই প্রযুক্তিটি ডিএইচএল এর মতো কোম্পানীর বক্স খুঁজে পেতে সাহায্য করবে। আবার কোন দুর্ঘটনা ঘটলে বা নিরাপত্তা বিঘ্নিত হলে কর্মচারীরা সহজেই জানতে পারবে সবাই কোথায় আছে। এছাড়াও বিভিন্ন কাজে ব্যবহার করা যাবে।
এর ফলে মানুষকে অনুসরণ ঠিকই করা যাবে আবার তার ব্যক্তিগত গোপনীয়তাও রক্ষা করা যাবে। কিন্তু সাধারনতঃ যে সিসিটিভি ব্যবহার করা হয়, তাতে মানুষের ব্যক্তিগত গোপনীয়তা বলতে কিছুই থাকে না।
অন্যদিকে কিছু কিছু স্থানে এতো বেশি ক্যামেরা থাকে যে নিরাপত্তা কর্মচারীদের সবগুলো একসাথে খেয়াল করা সম্ভব হয়ে উঠে না। এয়ারপোর্টের এক জরিপে দেখা যায়, ৯৮% সিসিটিভি ঠিক মতো খেয়াল করা হয় না। তাই আবার এই কথা খেয়ালে রেখে আরেক কোম্পানি বের করেছে ’স্মার্ট ক্যাচ’ নামের এক সফটওয়্যার। এটি অযাচিত গতিবিধি চিহ্নিত করে নিরাপত্তা কর্মচারীকে জানান দেবে কিছু একটা সমস্যা হয়েছে। এটা হতে পারে, রেখে যাওয়া ব্যাগ; একটি মানুষের লাইন যা ’এক্সিট’ বা সুরক্ষা দরজা দিয়ে ছুটছে বা বেশ কিছু ছোট ছেলেমেয়ে রাস্তার ধারে একত্রিত হয়েছে।

এই ট্র্যাকিং সিস্টেম নিয়ে তাইওয়ানের ছোট এক প্রযুক্তি নির্ভর কোম্পানী স্টার্সন্যাভ বের করেছে ’পার্সোনাল ট্র্যাকার’। আইপডের মতো দেখতে ছোট এই যন্ত্রটি একধারে জিপিএস ও জিএসএম এর কাজ করে। বাবা-মা তাদের সন্তানের ব্যাগে রেখে দিলে তাদের গতিবিধি’র উপর নজরদারী করতে পারবে। এর মধ্যে আছে এসওএস; যা সতর্ক করে দেবে কোন ফোন কল আসলে। শুধু তাই নয়, এই যন্ত্রটি থেকে সিম কার্ডটি সরিয়ে নিয়ে কম্পিউটারে বিভিন্ন তথ্য ডাউনলোড করে নেয়া যাবে; যা থেকে জানা যাবে এর ব্যবহারকারী সারদিন কোথায় কোথায় ছিলো।
কোম্পানী থেকে জানানো হয়, এটি জীবজন্তু, সৈন্য এবং গাড়ী নিয়ন্ত্রনের ক্ষেত্রেও কাজে আসবে।

অন্যান্য প্রযুক্তি
সুরক্ষা প্রযুক্তি ছাড়াও বেশ কিছু মজাদার প্রযুক্তি উঠেছিলো এই মেলায়। এর মধ্যে একটি হচ্ছে সাঁতারের গগলস (চশমা)। এতে আছে বিল্টইন ওয়াটারপ্রুফ ক্যামেরা। সাঁতার কাটার সময় ব্যবহারকারী মজা করে পানির নিচের বিভিন্ন ছবি তুলে নিয়ে আসতে পারবে।
ওখানে এর দাম ধরা হয়েছে ১২৯ ইউরো। ক্যামেরাটি হচ্ছে ৫.০ মেগাপিক্সেলের। সাথে আছে ১৬ মেগাবাইট মেমোরি। এতে ব্যবহারকারী ২৯টি ফটো অথবা ৫২ সেকেন্ড এর ভিডিও ধারন করতে পারবেন। এই চশমাটি কাজ করবে পানির ১০০ ফুট নিচ পর্যন্ত।

প্রায় একই ধরনের আরেকটি চশমা ক্যামেরা দেখা গেছে চাইনিজ ’জনিক্স’ স্টলে। এতে শুধু বিল্ট ইন ক্যামেরাই নয়, এমপিথ্রি প্লেয়ারও আছে।

বিশ্বখ্যাত আসুস কোম্পানী এনেছে বাঁশ দিয়ে নির্মিত ল্যাপটপ! দেখতে চমৎকার এই ল্যাপটপ স্বাভাবিকভাবেই এটি আকৃষ্ট করেছে অনেক দর্শনার্থীদের। তবে বাজারে এটি ছাড়া হবে কিনা তা নিয়ে এখনো সিদ্ধান্ত নেয় নি আসুস কোম্পানী।

কুকুরের রবোট আর কত? তাই বোধহয় ক্যালিফোর্নিয়ার উগোবি এবার মেলায় প্রদর্শন করেছে ডাইনোসর রোবট প্লিও। কাজকর্মে এটি সনি’র আইবো রোবটিক কুকুরে চেয়ে কোন অংশে কম নয়। প্লিওকে এমনভাবে প্রোগ্রাম করা হয়েছে যে, একে কম্পিউটারে ইউএসবি দিয়ে যুক্ত করে দিলে বিভিন্ন ধরনের ছল-চাতুরীসহ বিভিন্ন ধরনের ডাক শিখে নিতে পারে।
সবুজ ও বাদামী রঙের প্লিও ছাড়া হয়েছে। ইউরোপের জন্য এর দাম পড়ছে ৩০০ ইউরোর মতো। মজার বিষয় হচ্ছে এই রোবো ডাইনোসরটির মাঝে মধ্যে কিন্তু ক্ষিধেও পায়। আবার এটি সবসময় কিন্তু আপনার সাথে খেলা করতে রাজি হবে না। কারণ এর মন মেজাজ সব সময় আবার ভালো থাকে নাতো!

জার্মান পুলিশের আকষ্মিক আক্রমন
সিবিট প্রযুক্তি মেলায় আইন লঙ্ঘন আইনে পুলিশ ও কর্তব্যরত সুরক্ষা কর্মচারীরা প্রদর্শনকারীদের মোবাইল ফোন, নেভিগেশন ডিভাইস ও আরও বিভিন্ন যন্ত্রের কয়েক ডজন বাক্স আটক করেছে।
পুলিশ জানায়, তারা বিভিন্ন গেজেট, নথিপত্র ও বিজ্ঞাপনের মালমসলাসহ ৬৮টি বাক্স আটক করেছে। এই গেজেটের মধ্যে রয়েছে মোবাইল ফোন, নেভিগেশন ডিভাইস, ইলেক্ট্রনিক ছবি প্রদর্শনকারী ফ্রেম এবং ফ্ল্যাট স্ক্রিন ডিভাইস। মোটমাট ৫১টি প্রদর্শকারী এই অভিযানে আক্রান্ত হয়েছে। এদের মধ্যে ২৪টি চিন থেকে, ৩টি হংকং, ১২টি তাইওয়ান, ৯টি জার্মান এবং বাকিরা পোল্যান্ড, নেদারল্যান্ড ও কোরিয়া থেকে।

Wednesday, January 23, 2008

Jcview.exe, Press.exe ভাইরাস


সম্প্রতি jcview.exe এবং press.exe নামে একটি ভাইরাস ছড়ানো শুরু হয়েছে। নর্টন এ্যন্টিভাইরাস-সহ কোন এ্যন্টিভাইরাসই এই ভাইরাসকে চিহ্নিত করতে পারছে না। তবে ভাইরাসটিকে সরানোর উপায় পাওয়া গেছে। আপনার কম্পিউটার এই ভাইরাসে আক্রান্ত হলে নিচের ধাপগুলো অনুসরন করুন:


  1. প্রথমেই Start>Run এ গিয়ে regedit টাইপ করে ইন্টার চাপুন

  2. এবার Ctrl+F চেপে সার্চ বক্সটি অপেন করুন। টাইপ করুন jcview.exe এবং ইন্টার চাপুন।

  3. jcview.exe নামে যত এন্ট্রি পাবেন সব মুছে ফেলুন।

  4. একইভাবে সার্চ করুন press.exe এবং সমস্ত রেজিস্ট্রি এন্ট্রি মুছে ফেলুন।

  5. এবার HijackThis সফটওয়্যারটি ডাউনলোড করুন এখান থেকে অথবা এখান থেকে

  6. এবার সফটওয়্যারটি ইন্সটল করে ফেলুন।

  7. সফটওয়্যারটি চালু করে Open the Misc Tools section বাটনটিতে ক্লিক করুন।

  8. Delete a file on reboot... বাটনটিতে ক্লিক করুন।

  9. ব্রাউজ উইন্ডোতে C:\Windows -এ গিয়ে jcview.exe লিখে ইন্টার দিন এবং NO বাটনে ক্লিক করুন।

  10. একইভাবে C:\Windows\System এবং C:\Windows\System32 থেকে jcview.exe রিবুটের সময় মুছে ফেলার কমান্ড দিন।

  11. এবার একই পদ্ধতিতে আপনার প্রতিটি ড্রাইভ থেকে মুছে ফেলতে হবে: d.com, tip.exe এবং juok3st.bat। উদাহরস্বরূপ, Delete a file on reboot... বাটনটিতে ক্লিক করুন এবং C:\ ড্রাইভে গিয়ে d.com লিখে ইন্টার চাপুন।

  12. সব কাজ শেষে কম্পিউটার রিস্টার্ট দিন।

  13. আশা করি আপনার সমস্যার সমাধান হয়ে গেছে। :)

Saturday, October 20, 2007

ওয়েবের ভান্ডার - স্টাম্বল

Stumble চমৎকার একটি সফটওয়্যার। আপনার যদি সময় কাটানো একটা সমস্যা হয়, তবে আপনি এই টুলবারটি ব্যবহার করে দেখতে পারেন। কথা দিচ্ছি, ঠকবেন না! স্টাম্বল- এ ক্লিক করলে বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন ধরনের ওয়েবসাইট আসে। আর এই ওয়েবসাইটগুলো বাছাই করে পৃথিবীর বিভিন্ন স্টাম্বল সদস্য। যার যেটা ভালো লাগে সেটা স্টাম্বল করে দেয়; সাথে সময় থাকলে চাইকি একটু মন্তব্য।
স্টাম্বল আপনাকে শুধু ওয়েবসাইটই নয়; আলাদা করে ছবি, ভিডিও বা খবরও প্রদর্শন করতে ওস্তাদ। যদি হাতে সময় থাকে তাহলে একবার ব্যবহার করে দেখুনই না!
স্টাম্বল ডাউনলোড করে ইন্সটল করলে এটি স্থান নেবে ওয়েব ব্রাউজারের উপরের দিকে, গুগল টুলবারের মতো। এরপর ওখান থেকেই হবে আপনার সমস্ত কন্ট্রোল। আপনার পছন্দমতো বিভিন্ন বিষয়ভিত্তিক বাটনও যোগ করতে পারবেন।
ডাউনলোড করুন এখান থেকে: http://www.stumbleupon.com/

Thursday, April 19, 2007

আরএসএস ফিড

আরএসএস ফিড বর্তমানে ইন্টারনেট জগতে একটি তুমুল জনপ্রিয় পদ্ধতি। এতে করে সবসময় আপডেটেড খবর পাওয়া যায়। বিশাল বিশাল সব ওয়েব পোর্টাল ব্রাউজ করার প্রয়োজন হয় না। যে ওয়েব সাইটের আপডেটেড খবর জানা দরকার সেই ওয়েবসাইটের আরএসএস সাবস্ক্রাইব করলেই হয়।

এর রিডারে গিয়ে একে ইচ্ছে মতো সাজানো যায়। যেমন পাঠক ইচ্ছে করলে শুধুই হেডলাইন বা প্রথম প্যারার স্বল্প কিছু লাইন রিডার প্রদর্শন করবে। আর এটি দেখেই পাঠক বোঝে নিতে পারেন কোনটি তার পড়ার প্রয়োজন আর কোনটি নয়।

আরএসএস পদ্ধতি এখনকার বেশিরভাগ আন্তর্জাতিক মানের ওয়েবসাইটে ব্যবহার হয়। খবর প্রদানকারী ওয়েবসাইটের জন্য এটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ন। উদাহরন দেখতে এখানে ক্লিক করুন।

আরএসএস রিডার হিসেবে বর্তমানে ফায়ারফক্স সবচেয়ে জনপ্রিয় একটি সফটওয়্যার। এর নিজস্ব রিডারতো রয়েছেই, সেই সাথে আরো পাওয়া যায় বিভিন্ন আরএসএস রিডার এক্সটেনশন।

Friday, January 12, 2007

বিজ্ঞাপন দেখলেই টাকা!


অনলাইনে বিভিন্ন ভাবে টাকা আয় করা যায়। কিন্তু শুধু বিজ্ঞাপন দেখেও যে টাকা আয় করা যায়, সেটা বোধহয় অনেকেই জানেন না! Cashfiesta নামের এই ওয়েব সাইট, তার গ্রাহককে বিজ্ঞাপন দেখার জন্য ১ থেকে ২ মার্কিন ডলার প্রদান করে থাকে।
প্রথমে এতে সাইনআপ করতে হবে। অবশ্যই ফ্রি! এরপর এটি ব্যবহারকারীকে তার নিজস্ব একটি সফটওয়্যার ডাউনলোড করতে বলবে। এটি ইন্সটল করলে স্থান নেবে মনিটর স্ক্রিনের একদম উপরের দিকে। অবশ্য প্রয়োজন মতো একে স্ক্রিনের নিচে বা লুকিয়ে ফেলাও যায়।
মনিটরের স্ক্রিনের উপর নির্ভর করে এটি কয়েক ভাগে বিজ্ঞাপন প্রদর্শন করে। একই সাথে দুটি বিজ্ঞাপন বা ততোধিক বিজ্ঞাপন প্রদর্শন করতে পারে।
টাকা দেয়ার পদ্ধতি হচ্ছে, এটি ব্যবহারকারীর জন্য পয়েন্ট জমা করতে থাকে। সাধারনতঃ এক হাজার পয়ন্ট জমা হলে এক থেকে দুই ডলার করে প্রদান করে। আবার এর রেফারেল পদ্ধতি আছে। এই ক্ষেত্রে এক ব্যবহারকারী যদি আরেক ব্যবহারকারীকে এই ওয়েবসাইটে সাইনআপ করাতে পারে তবে তার জন্য আলাদা করে পয়েন্ট জমা হবে।
এটি এখন পর্যন্ত বাংলাদেশে ব্যবহার করেছে এমন কোন ব্যবহারকারী খুঁজে পাওয়া যায় নি! তাই এটি আদৌ টাকা পাঠায় কি পাঠায় না তা বলা কঠিন!

Monday, January 01, 2007

নতুন iMac G5


লেখাটি লেখা হয়েছিলো ২০০৪ সালে মাসিক ম্যাগাজিন কম্পিউটার টুমরোর জন্য। তাই লেখাতে অনেক কিছু নতুন বলে উল্লেখ থাকলেও সেটি আসলে আর নতুন নেই! তাই পরামর্শ হচ্ছে: পড়লে শুধুই জানার জন্য পড়ুন। :)

একটি কম্পিউটারের কথা চিন্তা করুনতো, যার শুধুমাত্র একটি মনিটর কী-বোর্ড রয়েছে, আর কিছুই নেই! কি, পাগল ভাবছেন নাতো আমাকে? ভাবছেন, সাথে একটি সিষ্টেম না থাকলে কম্পিউটার চলে কি করে? কিন্তু যদি বলি পুরো সিষ্টেমটিই রয়েছে মনিটরের ভিতরে! এখন নিশ্চয়ই আমাকে পুরোপুরি পাগল ভাবছেন? নাহ্‌, তাহলেতো আপনাদের আর অন্ধকারে রেখে লাভ নেই; বলেই দিই। এ্যাপল কোম্পানী বের করেছে এই আশ্চর্যজনক কম্পিউটারটি। যার পুরো সিষ্টেমটিই গায়েব করে ফেলা হয়েছে একটি মাত্র মনিটরের পেছনে। আসুন, আপনাদেরকে পরিচয় করিয়ে দিচ্ছি এই ভবিষ্যৎকালের অত্যাধুনিক ১৭ থেকে ২০-ইঞ্চি প্রশ্বস্ত স্ক্রীনের কম্পিউটার iMac G5 এর সাথে। এমন একটি কম্পিউটার যার আকর্ষনীয় মনিটরের ভেতরে রয়েছে, জি-৫ প্রযুক্তির লজিকবোর্ড, স্লট লোডিং অপটিক্যাল ড্রাইভ, হার্ডডিষ্ক, ষ্পিকার এবং এমনকি পাওয়ার সাপ্লাই। বর্তমানে বাজারে এর শুরু করা হয়েছে ১২৯৯ ডলার দ্বারা।

যেখানে ডিসপ্লে হচ্ছে কম্পিউটারঃ

এ্যাপল ডিজাইনাররা এর ডিজাইন করতে গিয়ে, প্রথমে বাদ দেন অপ্রাসঙ্গিক অংশটুকু; এরপর চেষ্টা করেন যতটুকু সম্ভব ছোট করা যায় এবং সব শেষে উন্নত ক্ষমতাশালী প্রযুক্তি দ্বারা এদের সম্পূর্নভাবে লুকিয়ে ফেলা হয় মনিটরটির পেছনে। এই iMac G5 কম্পিউটারটি ঝুলে আছে তড়িৎপ্রবাহিত একটি মাত্র এ্যলুমিনিয়াম দন্ডের উপর। এর বিশাল প্রশ্বস্ত স্ক্রীনের সাহায্যে আপনি একই সময়ে বন্ধুদের সাথে চ্যাট করতে করতে ইন্টারনেট ব্রাউজ বা মেইল চেক, ফটো এডিটিং চালিয়ে যেতে পারবেন। আর যাই হোক, ২০ ইঞ্চি ডিসপ্লের ১৬৮০ × ১০৫০ পিক্সেলের রেজুলেশন বলে কথা! এতে পাশাপাশি সম্পূর্ন দুটো পৃষ্ঠারও বেশী পৃষ্ঠা আপনি পড়তে পারবেন। ২০ ইঞ্চি স্ক্রীনে ১৭ ইঞ্চি-১৪৪০ × ৯০০ পিক্সেলের চেয়ে ৩৬% বেশি স্ক্রীন এরিয়া পাবেন।

আই ম্যাক জি-৫ এর ১৭ইঞ্চি মডেলটির পুরুত্ব হচ্ছে ১.৯৯ ইঞ্চি এবং ২০ ইঞ্চি মডেলটির পুরুত্ব ২.২ ইঞ্চি।

গণতান্ত্রিক প্রযুক্তিঃ

এ্যাপলের প্রফেশনাল ডেস্কটপে iMac G5 এনেছে নতুন প্রযুক্তির নতুন চমক। এর জি-৫ প্রসেসর আপনাকে দেবে কম্পিউটার চালানোর অভিজ্ঞতায় এক নতুন আলো। পূর্ববর্তী আই-ম্যাকের সাথে একে তুলনা করে দেখা গেছে iMac G5 ৭১% বেশী সফটওয়্যার একই সময়ে ট্র্যাক করতে পারে। একই সাথে ফটোশপের শক্তিশালী, হাই-রিসোর্স ব্যবহারকারী প্লাগ-ইন ব্যবহার করে দেখা গেছে এটি G4 বেইজড্‌ আই-ম্যাকের চেয়ে ৫৫% বেশী ষ্পীডে কাজ করে। এবার ই-মেইলে বা ওয়েবে কানেক্ট হোন, মুভি তৈরী করুন, গান শুনুন বা ডিভিডি দেখুন, ফটো এডিটিং করুন- বা আর যাই করুন সব হবে ঝটপট করে। ১.৬ বা ১.৮গি.হা. জি-৫ প্রসেসর থেকে যেটিই বেছে নিন না কেন, আপনি ৬৪-বিটের এ্যপ্লিকেশনগুলো চালাতে পারবেন খুবই সুরক্ষিতভাবে। আপনার প্রিয় Mac OS X অপারেটিং সিষ্টেমের সম্পূর্ন পারফরমেন্স পাবেন এই প্রসেসরে। শুধুমাত্র অপারেটিং সিষ্টেমেই নয়, কম্পিউটারের গতিশীলতা দেখতে পাবেন এর বিভিন্ন সফটওয়্যারে, যেমন- iLife ’04, Quicken 2004 এবং World Book|

একের ভেতরে সবঃ

iMac G5 হচ্ছে বর্তমান ভবিষ্যৎ যুগের পরিপূর্ণ একটি কম্পিউটার। একটি আদর্শ কম্পিউটারে যা যা থাকা দরকার তার সব কিছুই পাবেন এই ২ইঞ্চি পুরু কম্পিউটারে। যেমন এই ধরুন না, এর স্লট লোডিং সুপার ড্রাইভ বা কম্ব-ড্রাইভটির কথা। সিডি ডিভিডি রিড থেকে শুরু করে রাইট পর্যন্ত করতে পারবেন। আপনার ছুটির দিনের বিশাল বিশাল সাইজের ছবি বা ভিডিওগুলো সম্পূর্ন রেজুলেশনে রেখে, ডিভিডি রাইট করে বান্ধবীর কাছে পাঠিয়ে দিয়ে তাকে চম্‌কে দিতে পারবেন। তারপর আবার স্পেশাল কিছু গান সিডিতে রাইট করে স্পেশাল কারো জন্য আলাদা করে রেখে দিতে পারবেন। এর R^wKwËlw LCD ডিসপ্লের ১৬ঃ১০ প্রশ্বস্ত স্ক্রীনে প্রাকৃতিকভাবেই আপনি উপভোগ করতে পারবেন ডিভিডির আসল মজা। এর রয়েছে বিল্ট-ইন ষ্টেরিও স্পিকার; যা দিয়ে আপনি শুনতে পাবেন প্রাকৃতিক শব্দ। শব্দের তরঙ্গ আপনাকে এমন ভাবে ঘিরে ধরবে- আপনার মনে হবে আপনি বাস্তবে সেখানে উপস্থিত রয়েছেন।

পৃথিবীর সংস্পর্শেঃ

iMac G5 দ্বারা আপনি সব কিছুর সাথেই কানেক্ট হতে পারবেন। শুধু সঠিক পোর্টটি বেছে নিন এবং কানেক্ট হয়ে যান আপনার ডিভাইসের সাথে। ধরা যাক আপনার দৈনন্দিক জীবন শুরু হয় গান শুনে এবং সেজন্য আপনি ব্যবহার করেন হেডফোন। iMac G5-G হেডফোনের জন্য রয়েছে আলাদা সহজ একটি মিনি প্লাগ। ডিভিডি উপভোগ করার সাথে সাথে আপনি পাবেন ৫.১ সারাউন্ড সাউন্ড। এখানেই শেষ নয়, আরও আছে আপনার ক্যামেরা, কেমকোডার বা গেমপোর্টের জন্য USB 2.0 পোর্ট এবং FireWire 400 কানেক্টর। অথবা আপনি যদি চান আপনার এই আই-ম্যাককে আপনি কানেক্ট করবেন টিভি বা কোন প্রোজেক্টরের সাথে- তাও সম্ভব একটি mini VGA পোর্টের মাধ্যমে। এর লাইন-ইন জ্যাক আপনাকে সুবিধা দেবে ইলেক্ট্রনিক গিটারের সাথে কানেক্ট হয়ে তার সাউন্ড রেকর্ড করতে। এর পর আসে আপনার বহিঃর্বিশ্বের সাথে যোগাযোগের ব্যবস্থার কথা। নেটওয়ার্কিং-এর জন্য আই-ম্যাক আপনাকে অফার করছে ইথারনেট। এর মডেমের সাহায্যে আপনি শুধু ডায়ালাপ ইন্টারনেটই নয়, কানেক্ট হতে পারবেন ফ্যাক্স মেশিনের সাথে।

চলুন তারবিহীন ভাবেঃ

আর কত? এবার ঝেড়ে ফেলুন যত সব তারের ঝামেলা। তার ছাড়াই এবার কানেক্ট হোন ইন্টারনেট, কী-বোর্ড, মাউস বা আপনার ছোট্ট সেল ফোনের সাথে। আই-ম্যাকে রয়েছে AirPort Extreme Card| চলুন এবার মুক্ত স্বাধীন বিহঙ্গের মত। যেখানেই থাকুন না কেন- রাস্তায় বা বাড়ীতে, নেটওয়ার্কিং করুন তারবিহীন ভাবে AirPort Extreme বেইজ ষ্টেশন হতে ১৫০ফিটেরও বেশী দূরত্বে। AirPort Express–Gk সাহায্যে আপনার ডকুমেন্টস প্রিন্ট করুন প্রিন্টার থেকে। আপনি আপনার আই-ম্যাককে কনফিগার করে নিতে পারবেন ওয়্যারল্যাস ডিভাইসের জন্য। এর অর্থ হচ্ছে, আপনি পাচ্ছেন এ্যপলের তারবিহীন কী-বোর্ড মাউস; যা দিয়ে আপনি ঘরের এক কোনা হতে আপনার কম্পিউটারকে কন্ট্রোল করতে পারবেন।

চমকপ্রদ গ্রাফিক্সঃ

iMac G5 এর গ্রাফিক্স প্রসেসর আপনাকে দেবে পরবর্তি প্রজন্মের উচ্চ ক্ষমতা সম্পন্ন ত্রিমাত্রিক গেমস্‌ খেলার সুবিধা। এতে ব্যবহার করা হয়েছে NVIDIA Gk শক্তিশালী হার্ডওয়্যার। এর প্রতি পিক্সেলের শেডিং এবং ড্রপ-ডেড এর R^wKwËlw এফেক্ট আপনাকে মুগ্ধ করবে। এর প্রতিটা মডেলই প্রতি সেকেন্ডে বিলিওনেরও বেশী পিক্সেল ডেলিভার করে এবং এর Live FX ইঞ্জিন গেম খেলার সময় প্রতিটা কারেক্টারকে জীবন্ত করে উপস্থাপন করবে। এই গ্রাফিক্স প্রসেসরটি সিপিউ-র সাথে ফাংশন করে সিপিউ-র ওপর থেকে গ্রাফিক্সের অতিরিক্ত লোড কমিয়ে দেয়। যে কারনে আপনি অনুভব করতে পারবেন G5 প্রসেসরের আশ্চর্যজনক গতিশক্তি।

এতে ব্যবহৃত NVIDIA GeForce FX 5200 আল্ট্রা গ্রাফিক্স প্রসেসর ব্যবহার করে ৬৪মে.বা. এসডি র‌্যাম। স্বভাবিকভাবেই, মনিটরে দ্বি-মাত্রিক ত্রি-মাত্রিকের পারফরমেন্স দেখে আপনার মনে হবে আপনি বুঝি নিজেই ওখানে b^wxrËt আছেন।

সফটওয়্যারঃ

আপনার ডিজিটাল লাইফ ষ্টাইলে আপনার যা কিছু দরকার তার সব কিছুই পাবেন আপনি এই iMac G5-G| এর আই-লাইফ স্যুট এ্যপ্লিকেশন আপনার ডিজিটাল ডিভাইসের জন্য এমন সব সার্ভিস দেবে যা দেখে আপনি অবাক না হয়ে পারবেন না। সাথে আছে- বিশ্বের শ্রেষ্ঠ, এডভান্স অপারেটিং সিষ্টেম Mac OS X; যাকে প্রি-কনফিগার করা হয়েছে সিকিউরিটি, ষ্ট্যাবিলিটি, ইন্টারনেট এবং ব্যক্তিগত বিনোদনের জন্য। আরও আছে- আপনার চেকবুক ব্যলেন্স করার জন্য সফটওয়্যার, একটি এনসাইক্লোপিডিয়া, গেমস, একটি ওয়ার্ড প্রসেসর এবং আরও অনেক অনেক সফটওয়্যার।

উপভোগ করুন iLife ’04:

এইবার মনের মত করে মুভি তৈরি করুন! স্পিলবার্গের মত করে তৈরী না করতে পারলেও খুব একটা খারাপ যে তৈরি করবেন তাও বলতে পারছিনা। কেননা, এই iLife ËK তৈরী করা হয়েছে এমনভাবে যে আপনি সাদামাটা ভাবে একটি ভিডিও এডিটিং করলেও সেটি এর ম্যজিক্যাল ষ্পর্শে হয়ে উঠবে অসাধারণ। খুব সহজেই তৈরি করে ফেলতে পারবেন একটি বাচ্চার জীবনের প্রথম পদক্ষেপ হতে গ্র্যাজুয়েশন এবং বিয়ে পর্যন্ত বিশাল একটি লাইফ ভিডিও। শেয়ার করুন একে ই-মেইল, ওয়েব সাইট বা ডিভিডি-তে। এটি দিয়ে আপনি অনলাইন হতে খুব সহজেই মিউজিক ডাওনলোড করে নিতে পারবেন; বার্ন করে তৈরি করতে পারবেন একটি মিক্স অডিও সিডি কালেকশন। অনলাইনে শেয়ার করতে পারবেন আপনার ব্যক্তিগত ছবির এ্যলবাম। এটিতে রয়েছে একটি চমৎকার গিটার। গান তৈরী করে উপহার দিতে পারবেন আপনার গার্লফ্রেন্ডকে। রয়েছে কুইকটাইম, এর সম্বন্ধে আর কি লিখবো; আপনারাই ভালো জানেন। কুইকটাইম হচ্ছে মুভি ফাইল চালানোর জন্য ম্যকের একটি ডিফল্ট আদর্শ সফটওয়্যার। উইন্ডোজের avi ফাইলে আর কি আউটপুট দেখেছেন, এর ভালো মানের একটি ভিডিও আউপুট দেখলে আপনার মাথাই ঘুরে যাবে!

সুরক্ষিত যোগাযোগ ব্যবস্থাঃ

মিনিটের ভেতরে ইন্টারনেটে কানেক্ট হোন। ব্রাউজ করুন ম্যাকের শ্রেষ্ঠ ব্রাউজিং সফটওয়্যার Safari দিয়ে। জাঙ্ক (junk) ই-মেইল চেক করার সাথে সাথে মেইল রিসিভ সেন্ড করুন। খুব সহজেই ফাইল শেয়ার করতে পারবেন পুরোনো Windows ভিত্তিক মেশিনের সাথে, যা কিনা আমাদের প্রচলিত পিসিতে আদৌ সম্ভব না! iMac G5-G আছে মডেম। যা দিয়ে সহজেই 56K (বা এর চেয়েও বেশী) ডায়ালাপ কানেকশন স্থাপন করতে পারবেন। পুরো স্ক্রীন জুড়ে ভিডিও কনফারেন্স উপভোগ করতে পারবেন। আপনার ইন্টারনেট কানেকশন শেয়ার করতে পারবেন অন্য কম্পিউটারের সাথে। এর ব্যবহৃত অপারেটিং সিষ্টেমে আছে বিল্ট-ইন ফায়ারওয়াল। যা কিনা আপনার আই-ম্যাককে রক্ষা করবে বাহিরের শত্রুর হাত থেকে।

ইউজার ফ্রেন্ডলীর শ্রেষ্ঠতাঃ

উইন্ডো নেভিগেশনে রয়েছে দ্রুততা, যা আপনার ভালো লাগবে। এখানে আছে, মাল্টিপল ইউজার সিষ্টেম। পরিবারের ছোট্ট সদস্য থেকে শুরু করে প্রত্যেকের জন্য তৈরি করতে পারবেন আলাদা আলাদা একাউন্ট। আছে ডজন খানেক হাই-কোয়ালিটি ফন্ট। এদের সাহায্যে আপনার ডকুমেন্টস খুব সহজেই অর্গানাইজ করতে পারবেন। আপনার আই-ম্যাকের স্ক্রীনকে রক্ষা করার জন্য আছে দৃষ্টি নন্দনীয় স্ক্রীনসেভার। রয়েছে শক্তিশালী বানান শুদ্ধিকরণ, যা এমনকি চ্যাট করার সময়ও আপনার বানান ভুল ধরে আপনাকে চম্‌কে দেবে। আপনি নিশ্চয়ই অনলাইন অথবা অফলাইনে বসে ই-বুক পড়ে থাকেন? যদি উইন্ডোজ অপারেটিং সিস্টেমে আপনার ই-বুক বা PDF পড়ার অভিজ্ঞতা থাকে, তাহলে নিশ্চয়ই মানবেন সেটা এক অসম্ভব অসহনীয় বিরক্তিকর অভিজ্ঞতা। ই-বুক রিডার ওপেন হতেই লাগে বেশ কিছুক্ষন আর একেকটা পেজ পরিবর্তন করতে নষ্ট করতে হয় আরও কিছুক্ষন সময়। আর যদি সেটা গ্রাফিক্যালী কোন পেজ হয়, তাহলেতো কথাই নেই- স্ক্রীণ K^wewK^wxe পর্যন্ত শুরু করে দেয়। এই ম্যাক অপারেটিং সিস্টেমে দেখবেন তার বিপরীত ঘটনা। উইন্ডোজ অপারেটিং সিস্টেমের চেয়ে তিন গুনেরও বেশী স্পীডে ওপেন হয়ে সহজে পড়ার সুযোগ করে দেবে। এই অপারেটিং সিস্টেমে রয়েছে কম্পিউটার স্লীপিং সিস্টেম। আপনি যদি বেশ কিছুক্ষনের জন্য কম্পিউটার ছেড়ে চলে যান তাহলে আপনার ম্যাক আপনার দেয়া পাসওয়ার্ড প্রোটেক্টেড হয়ে স্লীপিং মোডে চলে যাবে। অর্থাৎ, হঠাৎ করে অন্য কেউ এসে আপনার অনুমতি ছাড়া ব্যক্তিগত ফাইলপত্র দেখার সুযোগ পাবে না।

রয়েছে আরও অনেক সফটওয়্যার যা এই এক রিপোর্টে লিখে শেষ করা যাবে না। তবে আমি ব্যক্তিগতভাবে বলতে পারি ম্যাকের সফটওয়্যার হচ্ছে উইন্ডোজের চেয়ে অনেক অনেক বেশি ষ্টেবল। এতে বিরামহীনভাবে কাজ করলেও বিরক্তবোধ করবেন না।

ম্যাক হচ্ছে প্রথম ইউজার ফ্রেন্ডলী কম্পিউটার। শুধু বাহিরের দেশেই নয়, বাংলাদেশেও প্রাতিষ্ঠানিক-ভাবে ম্যাক ব্যবহার করা হয়। বেশীরভাগ পাব্লিকেশন বা মাল্টিমিডিয়া কোম্পানীতে গেলেই দেখতে পাবেন ম্যাকের বহুল ব্যবহার। এমনকি, আমাদের এই কম্পিউটার টুমরো অফিসের বেশীরভাগ কম্পিউটারই ম্যাক। ম্যাকের মাইনাস পয়েন্ট হচ্ছে, এর দাম খুব বেশী; যা কিনা সাধারণ মানুষের নাগালের বাইরে। এর সব কিছুই হচ্ছে বিল্ট-ইন। যে কারনে, কোন কিছুতে সমস্যা হলে সোজা সার্ভিস সেন্টারে না গিয়ে সাধারনত উপায় থাকে না। আর এক্ষেত্রে বাংলাদেশের অবস্থা বলে আপনাকে আর নিরুৎসাহিত করতে চাই না। তবে pø^w, ইদানিং বেশ কয়েকটি সার্ভিস সেন্টার বাংলাদেশে কাজ করছে। আইডিবি গিয়ে ÌL^wR নিলেই এই সম্বন্ধে ভালো জানতে পারবেন। যদি কখনো সুযোগ পান-তো একটি ম্যাক কম্পিউটার কিনে ফেলেন। বুঝতে পারবেন, ম্যাককে কেন পৃথিবীর শ্রেষ্ঠ কম্পিউটার বলা হয়।

এক নজরে iMac G5 এর সব কিছুঃ

Configurations

1.6GHz 17-inch iMac

1.8GHz 17-inch iMac

1.8GHz 20-inch iMac

Model

M9248LL/A

M9249LL/A

M9250LL/A

Processor

1.6GHz PowerPC G5

1.8GHz PowerPC G5

1.8GHz PowerPC G5

Frontside bus

533MHz

600MHz

Memory

256MB PC3200 (400MHz) DDR SDRAM, supports up to 2GB

Graphics

NVIDIA GeForce FX 5200 Ultra with 64MB DDR SDRAM with AGP 8X support

Hard drive1

80GB Serial ATA; 7200 rpm

160GB Serial ATA; 7200 rpm

Optical drive

Slot-loading Combo Drive (DVD-ROM/CD-RW)

Slot-loading SuperDrive (DVD-R/CD-RW)

Display

17-inch (viewable) widescreen TFT active-matrix LCD, 1440 x 900 pixels, millions of colors

20-inch (viewable) widescreen TFT active-matrix LCD, 1680 x 1050 pixels, millions of colors

Ports

Two FireWire 400 ports; three USB 2.0 ports, two USB 1.1 ports (on keyboard); VGA output S-video and composite video output

Networking

Built-in 10/100BASE-T Ethernet and 56K V.92 modem

Wireless

AirPort Extreme ready (based on 802.11g specification; IEEE 802.11b Wi-Fi certified); internal Bluetooth module available as build-to-order option

Audio

Headphone/optical digital audio output; audio line in

System software

Mac OS X version 10.3 “Panther,” includes Classic environment, Mail, iChat AV, Safari, Sherlock, Address Book, QuickTime, iSync, iCal

Software

iLife (includes iTunes, iPhoto, iMovie, iDVD and GarageBand), AppleWorks, Quicken 2004 for Mac, World Book 2004 Edition, Nanosaur 2, Marble Blast Gold, Microsoft Office 2004 for Mac Test Drive and Apple Hardware Test

Hardware accessories

Built-in stereo speakers, Apple Keyboard, Apple Mouse, modem cable

Cables and adapters

Apple VGA Display Adapter M8639G/A

Apple Video Adapter M9109G/A

Apple FireWire Cable (4-pin to 6-pin) M8706G/A

iMac G5 VESA Mount Adapter Kit M9755G/A (coming soon)

DVD

Apple 4x DVD-R Media Kit M8985G/A

Audio

Apple iPod

Wireless

AirPort Extreme Card M8881LL/A

AirPort Express Featuring AirTunes M9470LL/A

AirPort Extreme Base Station (with modem and antenna port) M8799LL/A

Internal Bluetooth module with antenna

D-Link USB Bluetooth Adapter T6295ZM/A

Sunday, December 24, 2006

অনলাইনে মুক্তিযুদ্ধের গল্প


মুক্তিযুদ্ধ আমাদের এক অনুপ্রেরণা। এই অনুপ্রেরণার মূল্যবোধকে বাঁচিয়ে রাখতে শুধু মাত্র ইতিহাসের কাগজে বই এবং মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘর যথেষ্ট নয়। প্রয়োজন অনলাইনে মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক বিশাল তথ্যভান্ডারের। একই সাথে জানানোর প্রয়োজন সারা বিশ¦বাসীকে। আর এরই প্রয়োজনবোধে অনলাইনে গড়ে উঠেছে বিভিন্ন ওয়েবসাইট, ব্লগ, পোর্টাল ইত্যাদি। কিন্ত্ত সমস্যা হচ্ছে, বেশিরভাগ সাইটগুলোতে যুদ্ধ সম্বন্ধে সামান্য বা সাধারণ ধারনা দেয়া আছে। এই সম্বন্ধে বিশদ কোন আলোচনা নেই। তারপরেও বাছাই করা কিছু ভালো ওয়েবসাইট নিয়ে আলোচনা করা হলো।

প্রথমেই আলোচনা করতে হয় উন্বুক্ত ওয়েবসাইট রিসোর্স উইকিপিডিয়াকে নিয়ে। http://www.wikipedia.org ঠিকানায় যথেষ্ঠ পরিমাণ তথ্য দেয়া আছে ইংরেজিতে। উইকিপিডিয়ার বাংলা ভার্সনটি অবশ্য এখনও ইংরেজিটার মতো অতোটা তথ্যবহুল হয়ে উঠতে পারেনি। কিন্তু ইংরেজি ভার্সনে ছবিসহ বিশদ আলোচনা করা হয়েছে। অন্যদিকে আছে বাংলাদেশ সরকারের মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘরের ওয়েবসাইট http://www.liberationmuseum.org.bd । এতে শুধু জাদুঘর নিয়েই কথা হয়নি, হয়েছে আন্তর্জাতিক দৃষ্টিভঙ্গি, মিডিয়ার ভূমিকা, বাংলাদেশের অভূ¨দয়, যুদ্ধে নারীদের ভূমিকা ইত্যাদি নিয়ে বেশ বড়সড় বর্ণনা। ওয়েবসাইটটি দেখতে বেশ সুন্দর, এ কথা মানতেই হবে। একেবারে মুক্তিযুদ্ধের আগে থেকে ইতিহাস জানা যাবে www.virtualbagladesh.com/ - এ গেলে। এখানে আছে মুক্তিযুদ্ধে পাকিস্তান বাহিনীর আত্বসমর্পনের দলিল। আরেকটি চমৎকার ওয়েবসাইট হচ্ছে http://www.bangladesh.net/ । এখানে আছে মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক কবিতা, ঐ সময়ের এক্সক্লুসিভ কিছু ছবি, দলিলপত্র, মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক অন্যন্য কিছু লিঙ্ক ইত্যাদি।

সাবকন্টিনেন্ট নামের একটি ওয়েবসাইটে আমাদের মুক্তিযুদ্ধটি স্থান পেয়েছে ইন্দো-পাক যুদ্ধ হিসেবে। তবে ভারী তথ্যের কারনে সাইটটি বেশ ভালো- এ কথা বলা যায়। এখানে যুদ্ধকে বিভিন্ন অধ্যায়ে ভাগ করে দেয়া হয়েছে। ঠিকানা: http://www.subcontinent.com/1971war/1971war.html । বিডি৭১ নামে আরেকটি বাংলাদেশী ওয়েবসাইট আছে যেটি মূলতঃ তৈরিই করা হয়েছে একাত্তর সনের কথা মনে করিয়ে দিতে। তবে এর সমস্যা হলো, এর অনেক তথ্যই পিডিএফ আকারে সংরক্ষিত করা আছে। তাই ঐ সমস্ত তথ্য পড়তে হলে এক্রোবেট রিডার বা পিডিএফ পড়া যায় এমন সফটওয়্যার কম্পিউটারে থাকতে হবে। ঠিকানা হচ্ছে: http://www.bd71.com

মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে আরেকটি মজার সাইট হচ্ছে ভারতীয় বিমান বাহিনীর ওয়েবসাইট http://www.bharat-rakshak.com । ভিন্ন ধর্মী এই সাইটটি পড়লে বেশ কিছু অজানা তথ্য পাওয়া যাবে। এতে ভারতীয় বিমান বাহিনীর বিভিন্ন শ্রেনীর কর্মকর্তারা তাদের অভিজ্ঞতা সম্বন্ধে বর্ণনা করেছেন। সংরক্ষন করা আছে ‘লিবারেশন টাইমস’ পত্রিকায় সেই সময়কার ছাপানো সংস্করণগুলো। একই সাথে আরেকটি ভারতীয় সাইট ঘুরে দেখা যেতে পারে http://www.freeindia.org

বাংলাদেশের সশস্ত্র বাহিনীর ওয়েবসাইটগুলোতেও বেশ ভালো ভালো তথ্য পাওয়া যাবে। এর জন্য বাংলাদেশ নৌবাহিনীর সাইটে যেতে হলে ক্লিক করুন: http://www.bangladeshmariners.com । সশস্ত্র বাহিনীর ওয়েবসাইটের জন্য http://www.bangladesharmy.info । আরো একটি সাইট হচ্ছে http://www.bdmilitary.com

শুধু মাত্র বাংলাদেশী ও ভারতী ওয়েবসাইটগুলো থেকে মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে পড়লে বোধহয় মন সম্পূর্ন ভরে না। তাই ব্রাউজ করতে পারেন পাকিস্তানী ওয়েব সাইট http://www.storyofpakistan.com । এখান থেকে জানা যাবে এই যুদ্ধ সম্বন্ধে পাকিস্তানীদের মতামত কি! অবশ্য এখানে যুদ্ধটিকে আখ্যায়িত করা হয়েছে ইন্দো-পাকিস্তান যুদ্ধ হিসেবে! আরো কিছু ওয়েবসাইট হচ্ছে http://www.ppp.org.pk, http://www.whatispakistan.com, http://www.mtholyoke.edu/